সংস্কারের পক্ষের দলগুলো জোট করতে চাইলে স্বাগত জানাবে এনসিপি: হাসনাত

হাসনাত আবদুল্লাহ | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংস্কারের পক্ষের দলগুলো জোট করতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্বাগত জানাবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে এনসিপির জেলা ও মহানগর কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলেও এ সময় জানান তিনি।

জোট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হাসনাত বলেন, 'সংস্কারের পক্ষে, বাংলাদেশের পক্ষে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা আছে, যে শক্তিটা গঠিত হয়েছে—সংস্কারের পক্ষের শক্তিগুলো যদি আমাদের সঙ্গে আসতে চায়, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জোট গঠন করতে পারি। কিন্তু যারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, দেশের সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে, চব্বিশে যে কারণে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল সেই জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে, তাদের সঙ্গে এনসিপির কোনো জোট, কোনো ধরনের কোনো নির্বাচনী অ্যালায়েন্স সম্ভব নয়।'

'নির্বাচনী অ্যালায়েন্স, ইলেকটোরাল অ্যালায়েন্স এবং দেশের সামগ্রিক স্বার্থে আমরা এনসিপি সব সময় ছাড় দিয়ে এসেছি, আমরা সংস্কারের পক্ষে সব সময় ছাড় দিয়ে এসেছি, জাতীয় ঐকমত্যের প্রশ্নে আমরা সব সময় ছাড় দিয়ে আসছি। জাতীয় ঐকমত্যের প্রশ্নে, সংস্কারের প্রশ্নে যে রাজনৈতিক দলগুলো আসতে চায়, তাদেরকে নিয়ে পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমরা তাদের স্বাগত জানাবো,' বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের 'ঢাকা লকডাউন' কর্মসূচি প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে হাসনাত বলেন, 'প্রথমত, আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের সামনে ভাবতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা দেখেছি যে, টকশোতে বিভিন্নভাবে যারা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিল, পেইড কিছু বুদ্ধিজীবী আছে—যাদেরকে ভাড়ায় খাটানো যায়, এসব মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে এত দিন বৈধতা উৎপাদন করেছে। গত দুই দিনের কার্যক্রমে বুঝে যাওয়া উচিত যে, আওয়ামী লীগ কখনোই গণমানুষের দল ছিল না।'

'এই যে আগুন সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও এগুলো কারা করেছিল অতীতে এবং বর্তমানে কারা করছে, এটি সুস্পষ্ট হয়ে গেছে গত দুই দিনের কার্যক্রমে। একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের যে পতন সেটি কিন্তু কোনো নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়নি—যে ব্যালটের মাধ্যমে সেটি হয়েছে, আবার ব্যালটের মাধ্যমে তাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি হবে,' যোগ করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এটি গণভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। গণভ্যুত্থানের ম্যানডেট হচ্ছে জনতার ম্যানডেট এবং এটি সর্বজনীন ম্যানডেট। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক দলের পতন হয়, সেই রাজনৈতিক দলের উপযোগিতা ফুরিয়ে যায় বলেই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সে রাজনৈতিক দলের নীতি-আদর্শ যখন জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যায়, তখনই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। যেহেতু গণভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যালটের মধ্য দিয়ে এই দলটিকে ফিরিয়ে আনার যারা বৈধতা উৎপাদন করছে, তারা মূলত আগুন সন্ত্রাসের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করছে। তারা বুলেটের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করছে। ব্যাংক লুটের পক্ষে, গুম-খুন, হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়নের পক্ষে, সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করছে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের উপযোগিতা বাংলাদেশে যে বিনষ্ট হয়ে গেছে, উপযোগিতার আর কোনো অবকাশ নেই, সেই জিনিসটি স্পষ্ট হবে।'

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

1d ago