নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক: আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: স্টার

নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ বলেন, 'তফসিলের পরদিন আমরা দেখেছি একজন চিহ্নিত আসামির হাতে আমাদের সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। এর ফলেই এই নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে আরও বেশি শঙ্কা তৈরি হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচনকেন্দ্রিক দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ করছি না। আগে যেরকম ছিল সেরকমই দেখা যাচ্ছে। ইসিকে আমরা এই কনসার্ন জানিয়েছি যে, মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি উপস্থিতি এবং আরও সক্রিয় কার্যক্রম চালাতে হবে।'

বিকেল ৩টার দিকে সিইসি এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে এনসিপির ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'আমরা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, অনেক এলাকাতেই এখনো সশস্ত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব না।'

'আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে কি না, এমন শঙ্কা আছে। বিগত তিন নির্বাচনে আমরা দেখেছি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, একতরফা আচরণ, রাতের ভোট। এ ধরনের একটা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনটা হয়ে যাবে—এ ধরনের একটা শঙ্কা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে,' বলেন তিনি।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, 'আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই আপিলে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা বড় দলের প্রতি দুর্বলতা দেখতে চাই না। এ ক্ষেত্রে যদি প্রশাসন, সরকারের মধ্যে এমন কোনো প্রক্রিয়া দেখি—আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বসে থাকব না। প্রয়োজনে আবার রাজপথে নামব। প্রয়োজনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধিকার ছিনিয়ে নেব।' 

জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে চায় না এনসিপি—এ কথা জানিয়ে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, 'আমরা চাই না ফ্যাসিবাদের দোসর যেন কোনোভাবেই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।'
উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত ২৯ ডিসেম্বর এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব নেন। পরে তাকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Comments

The Daily Star  | English