বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল উইন্ডিজ

ছবি: ফিরোজ আহমেদ

এক প্রান্তে কিছুটা লড়াই করলেন তানজিদ হাসান। অন্য প্রান্তে ব্যাটারদের আসা যাওয়া ছিল নিয়মিত। তাতে হয়নি বড় কোনো জুটি। ফলে বোলারদের সৌজন্যে পাওয়া সাধ্যের মধ্যে থাকা পুঁজিও হয়ে গেল বিশাল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হেরে সিরিজ খোয়াল টাইগাররা।

বুধবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৪ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ানদের দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

যদিও লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের সূচনাটা ভালো না হলেও কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান ফিল্ডাররা। চারটি সহজ ক্যাচ ছাড়েন তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জীবন সাইফ হাসান। ছক্কার চেষ্টায় মিডঅফ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু সে ক্যাচ ধরতে পারেননি ব্রান্ডন কিং। যদিও ৫ রানের বেশি করতে পারেননি সাইফ।

আর ষষ্ঠ ওভারে জীবন পান লিটন দাস। রোমারিও শেফার্ডের বলে এক্রোস দ্য লাইন খেলতে গিয়ে লিডিংএজ হয়ে আকাশে তুলে দিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক। কিন্তু সহজ সেই ক্যাচ অবিশ্বাস্যভাবে ফেলে দেন রাদারফোর্ড। জীবন পেয়ে আর দুই রান যোগ করে ব্যক্তিগত ২৩ রানে বিদায় নেন আকিল হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে। 

একাদশ ওভারে আরও একটি। এবার জীবন পান তাওহিদ হৃদয়। স্কয়ারলেগে এবার ক্যাচ ছাড়েন জেডন সিলস। যদিও আগের দুই ব্যাটারের মতো জীবন কাজে লাগেনি তারও। ব্যক্তিগত ১২ রানে বিদায় নেন শেফার্ডের বলে।

১৪তম ওভারে আলিক আথেনিজের ক্যাচ মিস ম্যাচের সবচেয়ে সহজটি। এবার জীবন পান তানজিদ হাসান। মিড উইকেট সীমানায় যখন তিনি ক্যাচ তুলে দেন, তখন তিনি ব্যাট করছেন ৪৪ রানে। এরপর তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি। তা অবশ্য যথেষ্ট হয়নি। শেফার্ডের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন কিংয়ের হাতে। ৪৮ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় খেলেন ৬১ রানের ইনিংস।

আগের সিরিজের অধিনায়ক জাকের আলী অনিক, যিনি আগের ম্যাচে বাদ পড়েছিলেন পারফরম্যান্সের কারণে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ১৮ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন শেফার্ডের তৃতীয় শিকার হয়ে। এরপর শামিম হোসেন, রিশাদ হোসেনও ব্যর্থ। ফলে আরও একটি হার মেনে নিতে হয় টাইগারদের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২২ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন আকিল হোসেন। ২৯ রানের বিনিময়ে তিনটি শিকার শেফার্ডেরও। এছাড়া ২টি উইকেট পান জেসন হোল্ডার।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৯ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুটা ভালো ছিল বাংলাদেশের। শুরুতেই ব্র্যান্ডন কিংকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর অধিনায়ক হোপ ও আথানেজ ৫৯ বলে ১০৬ রানের দারুণ জুটি গড়েন। পাওয়ার প্লেতে আসে ৫০ রান, ১০.৫ ওভারে দলীয় শতক।

দ্বাদশ ওভারে নাসুম আহমেদ আঘাত হানেন, তার বলে মিডউইকেটে ধরা পড়েন আথানেজ, পরের বলেই বোল্ড হন রাদারফোর্ড। পরের ওভারে মোস্তাফিজ ফেরান সেট ব্যাটার হোপকে। এতে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ১৫তম ওভারে রিশাদ হোসেন ফিরিয়ে দেন রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডারকে। ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা।

শেষদিকে রোস্টন চেজ ও রোমারিও শেফার্ড ২৭ বলে ২৬ রানের ছোট জুটি গড়লেও শেষ ওভারে ধসে পড়ে ইনিংস। মোস্তাফিজের বলে আউট হন শেফার্ড, পরের বলেই বোল্ড পিয়েরে, শেষ বলে রানআউট হন আকিল হোসেন। ফলে দেড়শ পার করতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন হোপ (৩ ছক্কা, ৩ চার)। আথানেজের ব্যাটে আসে ৩৩ বলে ৫২ রান (৫ চার, ৩ ছক্কা)। অপরাজিত থাকেন চেজ ১৭ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজ ২১ রানে ৩ উইকেট, নাসুম ও রিশাদ নেন ২টি করে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে দেড়শর আগেই থেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

18h ago