এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স

ফাইনালেও সুপার ওভার: বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হার, চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান শাহিনস

ছবি: এসিসি

সেমিফাইনালে সুপার ওভারের রোমাঞ্চে ভারত 'এ' দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ 'এ' দল। শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়েও একই নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো তারা। তবে এবার আর শেষ হাসি হাসতে পারলেন না আকবর আলীরা। তাদেরকে হতাশ করে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তান শাহিনস।

রোববার কাতারের দোহায় সুপার ওভারে গড়ানো রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে হেরেছে বাংলাদেশ। সুপার ওভারে তারা আগে ব্যাট করে ৬ রানে অলআউট হওয়ার পর ২ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে শিরোপা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। এর আগে ২০ ওভারের মূল ম্যাচে দুই দলই থামে ১২৫ রানে।

সুপার ওভারের প্রথম বলে হাবিবুর রহমান সোহান নেন সিঙ্গেল। দ্বিতীয় বলে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ফিরতি ক্যাচ দেন পাকিস্তানের পেসার আহমেদ দানিয়ালকে। পরের বল ওয়াইড হয়ে সীমানার বাইরে চলে গেলে আসে মোট ৫ রান। বৈধ তৃতীয় বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান জিশান আলম। ফলে বাকি থেকে যায় ৩ বল।

নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের পেসার রিপন মন্ডলের প্রথম ২ বলে দুটি সিঙ্গেল নেন যথাক্রমে সাদ মাসুদ ও মাজ সাদাকাত। তৃতীয় বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন মাসুদ। চতুর্থ বলে তিনি প্রয়োজনীয় ১ রান নিলে এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ নেয় পাকিস্তান।

ফাইনাল সুপার ওভার পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশের দশম উইকেট জুটির বীরত্বের কারণে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরো ওভার খেলা পাকিস্তানকে ১২৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর এক পর্যায়ে ৫৩ রানে ৭ ও ৯৬ রানে ৯ উইকেট খুইয়ে ফেলেন আকবররা। তখন তাদের হার মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে দশে নামা সাকলাইন ও এগারতে নামা রিপন তোলেন ঝড়। মূলত পেসার হলেও ব্যাট হাতে তাদের নৈপুণ্যে স্কোর হয় সমান।

নয়ে নামা রকিবুল হাসান ২১ বলে ২৪ রান করে আউট হওয়ার পর ১৬ বলে ৩০ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। পাকিস্তানের পেসার শহিদ আজিজের করা ১৯তম ওভারে হয় তিনটি ছক্কা। ফলে পাল্টে যায় চিত্র। কিন্তু ওই ওভারে মোট ২০ রান তুললেও শেষ ওভারে ৭ রানের সমীকরণ মেলানো যায়নি। শেষ বলে লেগ বাই থেকে ১ রান এলে ম্যাচ হয় টাই।

সাকলাইন ১২ বলে দুটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১৬ রানে। রিপন একটি ছক্কায় করেন ৯ বলে অপরাজিত ১১ রান। এর আগে বল হাতেও তারা ছিলেন উজ্জ্বল। রিপন ২৫ রানে পান ৩ উইকেট। ১ উইকেট নিতে সাকলাইনের খরচা ২৭ রান। বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল আঁটসাঁট থেকে ২ উইকেট নেন মাত্র ১৬ রানে।

বোলারদের বেঁধে দেওয়া সুর কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের মূল ব্যাটাররা। পাকিস্তানের স্পিনারদের সামনে তারা ছিলেন রীতিমতো অসহায়। সঙ্গে ছিল বাজে শটের প্রদর্শনী। দুই অঙ্কে যেতে পারেন কেবল সোহান (১৭ বলে ২৬ রান) ও এসএম মেহেরব (২১ বলে ১৯ রান)। আসা-যাওয়ার মিছিলে ছিলেন জিশান আলম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, ইয়াসির আলী ও অধিনায়ক আকবর।

পাকিস্তানের চার ঘূর্ণি বোলার মিলে ছড়ি ঘুরিয়ে নেন ৭ উইকেট। ১১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনার সুফিয়ান মুকিম। আরাফাত মিনহাস দুটি এবং মাসুদ ও সাদাকাত একটি করে উইকেট পান। বাকি দুটি যায় দানিয়ালের ঝুলিতে।

Comments

The Daily Star  | English

Hasina can’t evade responsibility for Khaleda Zia’s death: Nazrul

In 2018, Khaleda walked into jail, but came out seriously ill, he says

9h ago