মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুললেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী তারকা
বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতোমধ্যেই ক্রিকেট মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আলোচনা এখন ক্রিকেটে কি রাজনীতি ঢুকে পড়ছে?
সাবেক ভারতীয় পেসার মদন লাল স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, এই ঘটনায় ক্রিকেটাররাই রাজনৈতিক চাপের শিকার হচ্ছেন। ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মদন লাল বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, খেলাধুলোর ভেতরে রাজনীতির প্রভাব দিন দিন ভয়ংকরভাবে বাড়ছে।
'আমার মনে হয়, বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ তাদের প্রশ্ন করার কেউ নেই। কেউই বোর্ডকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না আমি বুঝতে পারছি না, কেন খেলাধুলোর মধ্যে এত রাজনীতি ঢুকে পড়ছে। ক্রিকেট কোন দিকে যাচ্ছে, খেলাধুলোর ভবিষ্যৎই বা কী সেটাই এখন বড় প্রশ্ন,' বলেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপের খেসারত ক্রিকেটারদেরই দিতে হয় জানিয়ে বলেন, 'বেশির ভাগ সংস্থাই এই ধরনের ঘটনায় খেলোয়াড়দের সামনে ঠেলে দেয়। এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। খেলোয়াড়দের ব্যবহার করা হয়। খেলাধুলোর মধ্যে রাজনীতি থাকা উচিত নয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।'
৩০ বছর বয়সী মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল মিনি-নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কেকেআর, যা তাকে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বাংলাদেশি ক্রিকেটারে পরিণত করে। কিন্তু নিলামের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপির একাধিক নেতা এবং দেশের কয়েকজন ধর্মীয় নেতা কেকেআর ও তাদের মালিক বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও কেন একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হলো।
মাত্র দুই দিন আগেই বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম প্রকাশ্যে শাহরুখ খানকে 'গদ্দার' (বিশ্বাসঘাতক) বলে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতা দেবকীনন্দন ঠাকুরও মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার জন্য বলিউড তারকার কড়া সমালোচনা করেন।
সব মিলিয়ে, মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের বাইরের চাপ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেই বাস্তবতাই আবার সামনে এনে দিয়েছে, যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে রাজনীতি ও মতাদর্শই হয়ে উঠছে নিয়ামক শক্তি।


Comments