শেষ ওভারে দুরন্ত মোস্তাফিজ, রংপুরের নাটকীয় জয়
আকিফ জাভেদের করা ১৯তম ওভারে সাব্বির রহমানের চার-ছক্কায় যখন ১৩ রান এলো, জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। হাতে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। ক্রিজে ছিলেন ফিফটি হাঁকিয়ে থিতু থাকা অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও আগ্রাসী ব্যাটার সাব্বির। কিন্তু সব সমীকরণ পাল্টে দিলেন কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান। বল হাতে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে হারতে বসা ম্যাচটি নাটকীয়ভাবে ৫ রানে জিতে নিল রংপুর রাইডার্স।
রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে রংপুর। জবাবে পুরো ২০ ওভার খেললেও ৪ উইকেটে ১৫০ রানের বেশি তুলতে পারেনি ঢাকা। চার ম্যাচে তৃতীয় জয়ের দেখা পেল রংপুর, বিপরীতে সমান ম্যাচে এটি ঢাকার তৃতীয় হার।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনীতিবিদ ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে নাম কাটা পড়ায় গতকাল শনিবার ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মোস্তাফিজ। এদিন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সব আলো আবারও নিজের দিকে কেড়ে নিলেন রংপুরের এই বাঁহাতি পেসার।
যখন স্নায়ুচাপ তুঙ্গে, তখন ম্যাচের শেষ ওভারে মোস্তাফিজ খরচ করেন মাত্র ৪ রান! প্রথম বলে মিঠুন সিঙ্গেল নেওয়ার পর সাব্বিরকে টানা দুই বলে কোনো রানই নিতে দেননি মোস্তাফিজ। শেষ তিন বলে তিন সিঙ্গেল আসলেও ঢাকার জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। সব মিলিয়ে চার ওভারের কোটা পূরণ করে তিনি ২৪ রানে নেন একটি উইকেট।
ম্যাচসেরার পুরস্কার অবশ্য ওঠে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। রংপুরের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ৪১ বল মোকাবিলায় মারেন সাতটি চার। ৩০ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর চাপ সামলে তিনি ৫৪ বলে ৭৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন ডাভিড মালানের সঙ্গে। মালান করেন ৩৩ বলে ৩৩ রান। শেষদিকে খুশদিল শাহ ঝড় তুললে দেড়শ পেরিয়ে যায় রংপুরের পুঁজি। খুশদিল চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ২১ বলে করেন অপরাজিত ৩৮ রান।
রান তাড়ায় ঢাকার ছয় ব্যাটারের সবাই দুই অঙ্কে পৌঁছান। উদ্বোধনী জুতিতে ৩৮ বলে ৫৪ রান তুলে শক্ত ভিত গড়ে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ (২২ বলে ৩১ রান) ও আবদুল্লাহ আল মামুন (১৮ বলে ২০ রান)। তবে তিনে নামা সাইফ হাসান খোলস ভাঙতে পারেননি। ১৫ রান করতে তিনি লাগিয়ে ফেলেন ২৪ বল।
তারপরও সাইফের সঙ্গে ৪৭ বলে ৫৩ ও শামীম হোসেনের (১০ বলে ১১ রান) সঙ্গে ১৭ বলে ২২ রানের জুটিতে ঢাকাকে কক্ষপথে রাখেন মিঠুন। সাব্বির নেমেই বাউন্ডারি পেয়ে গেলে আশা আরও বাড়ে তাদের। কিন্তু রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেন মোস্তাফিজ। মিঠুন ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে অপরাজিত ১২ রান।


Comments