ওমরজাইর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বৃথা গেল শামীমের রোমাঞ্চকর ব্যাটিং
ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৭ রান। মোহাম্মদ আমিরকে তুলোধোনা করে প্রায় অসম্ভব এক সমীকরণ মিলিয়ে দিচ্ছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। তবে শেষ বলের রোমাঞ্চে আর পেরে ওঠেননি তিনি। আজমতুল্লাহ ওমরজাইর ঝোড়ো ফিফটি আর দারুণ বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো ঢাকা ক্যাপিটালসকে।
বৃহস্পতিবার সিলেটে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সের কাছে ৫ রানে হেরেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। আগে ব্যাট করে ওমরজাইর ২৪ বলে অপরাজিত ৫০ রানের ওপর ভর করে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে সিলেট। জবাবে ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া ঢাকাকে জয়ের বন্দরে প্রায় পৌঁছে দিয়েছিলেন শামীম। ছয়ে নেমে ৪৩ বলে ৮১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
আমিরের করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মারেন শামীম। দ্বিতীয় বলটি 'ওয়াইড' হওয়ার পর পরের ডেলিভারিতে বল পেয়ে যান তিনি। ফ্রি-হিটে ছক্কা মেরে গ্যালারিতে উত্তাপ ছড়ান শামীম। তৃতীয় বলটি ডট হওয়ার পর চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা দুই বাউন্ডারি মারেন শামীম। ফলে শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭ রান (টাই করতে ৬)। কিন্তু শেষ ইয়র্কারে আর কিছু করতে না পেরে আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
এদিন মাঝারি সংগ্রহের দিকে এগোতে থাকা সিলেটকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই। শেষ দুই ওভারে তার রুদ্রমূর্তিতে সিলেট পায় ১৭৩ রানের সংগ্রহ। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানোর পর বল হাতেও সমান উজ্জ্বল ছিলেন এই আফগান অলরাউন্ডার। ৪০ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি।
১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে ঢাকা। ওপেনার সাইফ হাসান ১৭ বল খেলে মাত্র ৯ রান করে ওমরজাইর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। আরেক ওপেনার জুবাইদ আকবরি আউট হন তৃতীয় ওভারেই। তিনে নেমে উসমান খান দ্রুত কিছু রান তুললেও নাসুম হোসেনের স্পিনে কাটা পড়েন তিনি। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনকে ওমরজাই এবং অভিজ্ঞ নাসির হোসেনকে মেহেদী হাসান মিরাজ বিদায় করলে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাকফুটে চলে যায় ঢাকা।
বিপর্যয়ের মুখে অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে ২৩ রানেই থামেন তিনি। এরপর ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন শামীম পাটোয়ারী। তবে ইমাদ ও সাইফউদ্দিন দ্রুত ফিরে গেলে একা লড়াই চালিয়ে যান শামীম। প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্যকে হাতের নাগালে নিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না সিলেটের। ২২ রানের মধ্যে রনি তালুকদার ও মিরাজ বিদায় নেন। সাইম আইয়ুব মন্থর ব্যাটিং করলেও পারভেজ হোসেন ইমন ৩২ বলে ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। আফিফ হোসেন দ্রুত ফিরলে ইনিংসের হাল ধরেন ওমরজাই। তার ২৪ বলের অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।


Comments