গাজায় ফিলিস্তিনিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল

গাজায় আইডিএফের অভিযান।
গাজায় আইডিএফের অভিযান। ফাইল ছবি: আইডিএফের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজার ভবনগুলোতে প্রবেশ করার সময় ফিলিস্তিনিদের সামনে রেখে 'মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করছে। আইডিএফের এক সেনার বয়ানে এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। 

আজ বুধবার জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডিএফ সেনার সঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের যোগাযোগ করিয়ে দেয় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স নামের বামপন্থী এনজিও। এই এনজিওর মধ্যস্থতায় আইডিএফ সেনা সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার সেনা ইউনিট দুই ফিলিস্তিনিকে আটক করে এবং তাদেরকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গাজার কিছু বিপদজনক ভবনে প্রবেশ করে এবং তল্লাশি চালায়। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই সংঘাতের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের এভাবে আটক করে গাজা উপত্যকায় মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

সিএনএনের প্রতিবেদনে এই চর্চা কতটুকু বিস্তৃত, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই সেনা ও পাঁচ ফিলিস্তিনি ব্যক্তির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে উত্তর গাজা, গাজা সিটি, খান ইউনিস ও রাফা এলাকায় এই কৌশলের বহুল ব্যবহার হয়েছে।

ওই পাঁচ ফিলিস্তিনিকেও এভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

গাজার খান ইউনিসে আইডিএফের স্থল অভিযান। ফাইল ছবি: আইডিএফের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত
গাজার খান ইউনিসে আইডিএফের স্থল অভিযান। ফাইল ছবি: আইডিএফের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স মূলত এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে সেনারা পরিচয় প্রকাশ না করে সামরিক সেবায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় অনিয়ম, অবিচার ও অবমাননার ঘটনাগুলো ফাঁস করতে পারেন।

ইসরায়েলি সেনা সিএনএনকে জানান, ২০২৪ সালের বসন্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দুই ফিলিস্তিনি বন্দিকে তার ইউনিটে নিয়ে আসেন। তাদের বয়স ছিল ১৬ ও ২০। ওই কর্মকর্তা গাজার ভবনগুলোতে প্রবেশের সময় তাদেরকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে বলেন।

কর্মকর্তা দাবি করেন, হামাসের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। 

সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দেওয়া সেনা এই চর্চা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে তার কমান্ডার জানান, 'এসব ভবনে বোমা পেতে রাখা হতে পারে। আমাদের সেনাদের বদলে ফিলিস্তিনিরা সেই বোমায় বিস্ফোরিত হোক।'

ঐ সেনা সিএনএনকে জানান, তিনি এবং অপর কয়েকজন সেনা ফিলিস্তিনিদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করেন এবং তাদের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। কিন্তু কমান্ডার তাদেরকে জানান, 'আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে তোমাদের ভাবার দরকার নেই।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ইসরায়েলি সেনাদের জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।' তবে, পরবর্তীতে কমান্ডার দুই ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেন।

আইডিএফের প্রতিক্রিয়া

সিএনএনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইডিএফ আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে। তারা বলেছে, 'আইডিএফের নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুযায়ী, গাজায় আটক বেসামরিক ব্যক্তিদের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংঘাত চলার সময় যুদ্ধক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি নিয়মিত সেনাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়।'

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহারে নিষিদ্ধ। ২০০৫ সালে ইসরায়েলি হাইকোর্ট এই চর্চার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

Comments

The Daily Star  | English
enforced disappearance report Bangladesh

75% of disappearance survivors Jamaat-Shibir, 68% of those still missing BNP

Commission of Inquiry on Enforced Disappearances submits final report to CA Yunus

11h ago