মাগুরায় চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আকিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার ইছাখাদা এলাকায় পিটুনির ঘটনা ঘটে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিজত আকিদুল ইসলাম (৪৫) সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

গত ৫ মাস আগে তিনি সাইপ্রাস থেকে দেশে ফিরে ঢাকায় একটি সবজির আড়তে কাজ শুরু করেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

ওসি আশিকুর রহমান বলেন, 'সদর উপজেলার আঠারোখাদা ইউনিয়নের মালন্দ গ্রামে গরু চোর সন্দেহে আকিদুলকে ভোরে আটক করে পিটুনি দেয় স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকালের দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।'

মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমাইয়া আফরিন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকাল ৯টার দিকে ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তার মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়েছে। পায়ে বড় আঘাত থেকে রক্ত ঝরছিল।'

নিহত আকিদুলের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের ছেলে সাইমন ডেইলি স্টারকে জানান, তার বাবা ৫ মাস আগে সাইপ্রাস থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি ঢাকায় সবজির আড়তে কাজ করতেন। ঢাকা থেকে রাতের গাড়িতে রওনা দিয়ে ভোরে বাড়ি ফেরার সময় ইছাখাদা বাজারে নামলে পথে চোর অপবাদ দিয়ে তাকে পিটুনি দেয় স্থানীয় লোকজন। ইছাখাদায় নামার পর আকিদুল তাকে ফোন করে সেখানে যাওয়ার কথা বলেছিল, দাবি সাইমনের। 

তিনি বলেন, 'গ্রামের কিছু লোকজনের সঙ্গে বাবার পূর্ববিরোধ ছিল। তারাই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।'

নিহতের স্ত্রী অজিফা খাতুন বলেন, 'আমার স্বামী গরু চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। রাতে আমাদের জানিয়েই ঢাকা থেকে মাগুরার বাসে উঠেছিলেন। ইছাখাদায় নেমে আমার স্বামী ফোন করে ছেলেকে যেতে বলে তাকে নিয়ে আসার জন্য। এর কিছুক্ষণ পর আমার স্বামীর ফোন থেকে আরেকটি কল আসে। মনিরুল নামের একজন ফোনে বলেন যে, আমার স্বামী নাকি গরু চুরি করে ধরা পড়েছে। তাকে ছাড়াতে হলে টাকা লাগবে। এরপর স্থানীয় বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কোনো সুরাহা না পেয়ে সকাল ৮টায় পুলিশকে জানাই।'

ওসি জানান, মৃত আকিদুল প্রবাসী ও সবজি ব্যবসায়ী কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
 

Comments

The Daily Star  | English