পতাকা বৈঠকের পরও সীমান্তে বিএসএফের সড়ক নির্মাণের চেষ্টা-উত্তেজনা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলার খলিশাকোটাল সীমান্তের শূন্য রেখার কাছাকাছি এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরে দুপুরের দিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪ এর সাব-পিলার ১ নম্বর থেকে ১১ নম্বর সাব-পিলার পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভারতের ভেতরে একটি পুরোনো সড়ক আছে। সীমান্তঘেঁষা এ সড়কটি কোথাও আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে প্রায় ৫০–৬০ গজ, কোথাও ৭০ গজ কিংবা কোথাও ১০০-১২০ গজ দূরত্বে অবস্থিত।
গত কয়েকদিন ধরে ওই পুরোনো সড়কের পূর্ব পাশে নতুন করে পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে ভারতীয় নির্মাণকর্মীরা। এর তত্ত্বাবধান করছিল বিএসএফ।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশ সড়ক কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে না।
এ সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকের পর নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিতে শুরু করে বিএসএফ।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে পতাকা বৈঠকের পর বিকেলের পর বিএসএফ গোপনে সড়ক নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দা, কুড়াল, কোদাল, কাস্তে ও লাঠি হাতে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়। পরে সন্ধ্যায় আবারও দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা কোরবান আলী (৬৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বৃহস্পতিবার দুপুরে পতাকা বৈঠকের পরও গোপনে বিএসএফ সড়ক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে সীমান্তে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে বিজিবির সঙ্গে একত্রিত হয়ে সীমান্তে অবস্থান নেয়। বিজিবি আমাদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেছে, তাই আমরা শান্ত রয়েছি।'
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু তাহের ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শুক্রবার সকালে সীমান্তের জিরো লাইনে বিএসএফের সঙ্গে আমাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আপাতত তারা সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে। আমরা সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।'
বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, 'স্থানীয় লোকজনকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হবে। সেদিন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।'

Comments