ফিক্সিং ইস্যুতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না করার পক্ষে বিসিবি
অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিক্সিং ইস্যু। নয় মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি তাদের ৯০০ পৃষ্ঠার বিশদ প্রতিবেদন মঙ্গলবার জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাতে, যা ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র কৌতূহল ও নানা জল্পনা।
বিসিবি এই তদন্তে সময়, শ্রম ও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রতিবেদনটির কোনো অংশ প্রকাশ করা হয়নি। বোর্ড জানিয়েছে, প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করবে না।
এই গোপনীয়তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও বিসিবি কর্তৃপক্ষের দাবি, সবকিছুই হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিমালা মেনে।
বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আপনি যদি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কমিটির নিয়ম দেখেন, বুঝবেন আমরা সেগুলোই অনুসরণ করছি। এখনই তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না, কারণ প্রক্রিয়ার আরও কিছু ধাপ বাকি।'
তিনি আরও বলেন, 'শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কারও নাম প্রকাশ করা যায় না। আগে দেখতে হবে কে অভিযুক্ত, এরপর শুনানি ও যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। আমরা আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করছি।'
প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা করছেন অ্যালেক্স মার্শাল, যিনি এর আগে বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন। নতুনভাবে গঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান হিসেবে এখন তিনিই এই তদন্তের পরবর্তী ধাপের দায়িত্বে।
সূত্র জানিয়েছে, তিন খণ্ডে বিভক্ত এই বিশাল প্রতিবেদনে রয়েছে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ট্রান্সক্রিপ্ট, সন্দেহভাজনদের নাম, অভিযোগ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের বিবরণ। তবে অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করতে আরও তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, 'শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের নাম প্রকাশ পাবে।'
এখন দেখার বিষয়, নতুন ইন্টেগ্রিটি ইউনিট কীভাবে এই ৯০০ পৃষ্ঠার অনুসন্ধান প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়।
এরই মধ্যে বিসিবি অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মেজর রায়ান আজাদকে, যিনি এতদিন ইউনিটটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এই ইউনিট অতীতে বিতর্কে জড়ায় তাদের কিছু তদন্ত পদ্ধতির কারণে, বিশেষ করে ঢাকার প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচে (গুলশান ক্রিকেট ক্লাব বনাম শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব) খেলোয়াড়দের মাঠে দাঁড় করিয়ে 'রান আউট' পুনরাভিনয় করানোর ঘটনায়। সেই ম্যাচই একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিক্সিং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
এদিকে, আসন্ন বিপিএল সামনে রেখে বিসিবি তাদের নতুন ইন্টেগ্রিটি ইউনিটে আইসিসির কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
একজন বিসিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা অ্যালেক্স মার্শালের সঙ্গে পরামর্শ করছি এবং আইসিসির সঙ্গে কথা বলছি যাতে তাদের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। এখনো কোনো নাম চূড়ান্ত হয়নি, তবে পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে।'


Comments