হ্যাজলউডের জাদুতে ভারতকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ভারতীয় দর্শকদের পরিপূর্ণ গ্যালারির সামনে যেন 'নিজের মাঠে পর' হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য। কিন্তু সেই উন্মত্ত পরিবেশকে স্তব্ধ করে দিলেন জশ হ্যাজলউড। তার আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ১২৫ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। এরপর ব্যাটারদের সৌজন্যে সহজ জয় মিলে অজিদের।

ভারতের দেওয়া লক্ষ্য ৪০ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ১–০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

হ্যাজলউড বল হাতে ছিলেন একেবারে অপ্রতিরোধ্য। চার ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচে নেন ৩ উইকেট। নতুন বলে তার নিখুঁত লাইন ও লেন্থে বিপদে পরে ভারতীয় ব্যাটাররা। ওপেনার শুবমান গিলকে প্রথম ওভারেই বিপাকে ফেলেন তিনি। একবার প্যাডে আঘাত, একবার হেলমেটে ধাক্কা, আর একাধিকবার 'বিট'। অবশেষে ১০ বলে মাত্র ৫ রান করে গিল ফেরেন মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে।

এক প্রান্তে তান্ডব চালালেও অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন একাই অভিষেক শর্মা। তিনিই ছিলেন ভারতের একমাত্র ভরসা। ৩৭ বলে ৬৮ রানের চোখধাঁধানো ইনিংসে তিনি যেন খেলছিলেন অন্য এক উইকেটে। দ্বিতীয় ওভারেই জেভিয়ার বার্টলেটকে উড়িয়ে মারেন এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে ছক্কা, আর নাথান এলিসের বিরুদ্ধে খেলেন অসাধারণ আপার-কাট বাউন্ডারি। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। একে একে সবাই আউট হয়ে গেলে অভিষেকও ১৯তম ওভারে লেগ-বিফোর হন এলিসের বলে। ভারতের ইনিংস থেমে যায় ১২৫ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে হ্যাজলউড ছাড়াও নাথান এলিস ২১ রানের খরচায় নেন ২ উইকেট। আর বার্টলেটের শিকার ২টি উইকেট।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করে মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড। বুমরাহর প্রথম ওভার সামলানোর পর তারা বিধ্বংসী রূপে জ্বলে ওঠেন। মার্শ ২৬ বলে ৪৬ রান করেন চারটি ছক্কার সাহায্যে, আর হেডের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৮। বুমরাহ শেষ মুহূর্তে টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে ব্যবধান কিছুটা কমালেও, অস্ট্রেলিয়া জয় পায় অনায়াসে, ৪০ বল বাকি থাকতেই।

ভারতের বোলারদের মধ্যে বরুণ চক্রবর্তীর ২ উইকেটের পাশাপাশি কুলদীপ ও বুমরাহও নেন ২টি করে উইকেট, তবে রানরেটের চাপ ছিল না বলেই অস্ট্রেলিয়া সহজেই ম্যাচ শেষ করে দেয়।

ম্যাচের নায়ক হ্যাজলউড বলেছেন, 'এমসিজির পিচ আমাদের পক্ষে কাজ করেছে, কিন্তু ভারতীয় দর্শকের সামনে এমন পরিবেশে ভালো কিছু করা সব সময়ই বিশেষ অনুভূতি।'

Comments

The Daily Star  | English

All primary students receive textbooks on first day of new year: adviser

30% of secondary level textbooks have yet to reach schools, sources at NCTB say

8m ago