ফিক্সিংয়ের অভিযোগ: বিপিএলের নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ বিজয়-সৈকতসহ ৭ জন

ছবি: সম্পাদিত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেন সাতজন ক্রিকেটার। ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সন্দেহভাজন খেলোয়াড়দের নাম বাদ দেওয়ার আলোচনার মধ্যে এটি ঘটল।

বিপিএলের নিলামের জন্য শুরুতে ১৬৬ জন স্থানীয় খেলোয়াড়ের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। শনিবার দ্য ডেইলি স্টারের হাতে আসা চূড়ান্ত তালিকায় (বিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি) আগের সেই তালিকায় থাকা সাতজনকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, নিজে থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন শামসুর রহমান শুভ।

গত ২৬ নভেম্বর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পাঠানো নিলামের প্রাথমিক তালিকার 'সি' ক্যাটাগরি থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ দুই তারকা— ব্যাটার এনামুল হক বিজয় ও অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুজনই বিপিএলের নিয়মিত মুখ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্বও করেছেন। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় সব আসরেই নিয়মিত খেলে থাকেন তারা।

ক্যাটাগরি 'ডি' থেকে বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার আলাউদ্দিন বাবু। 'ই' ক্যাটাগরি থেকে স্পিনার নিহাদুজ্জামান ও বোলিং অলরাউন্ডার সানজামুল ইসলাম নেই। নাম নেই 'এফ' ক্যাটাগরিতে থেকে পেসার শফিউল ইসলাম সোহান ও ব্যাটার মিজানুর রহমানের।

'ফিক্সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পর আমাদের ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল এই সুপারিশ করেছেন,' কারণ হিসেবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিসিবি কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে শনিবার বলেছেন।

'খেলোয়াড় ছাড়াও অভিযুক্ত আরও অনেকে আছে, যেমন— দলের কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে কেউ যদি এই বছর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কাজ করে থাকে, তাহলে আমরা তাদের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন (স্বীকৃতিপত্র) ইস্যু করব না,' তিনি যোগ করেছেন।

চূড়ান্ত তালিকায় মোট ১৫৮ জন স্থানীয় খেলোয়াড় রয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রাথমিক তালিকায় ছিল ২৪৫টি নাম। সেই তালিকাও চূড়ান্ত করে এখনও প্রকাশ করা হয়নি। অথচ আগামীকাল রোববার ঢাকার একটি হোটেলে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় বিস্মিত বিজয় প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ভাবনা করছেন। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেছেন, 'বিসিবিকে ফোন দেওয়া হচ্ছে। সভাপতি (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) থেকে শুরু করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন), (ইফতেখার রহমান) মিঠু ভাই, (নাজমুল আবেদিন) ফাহিম স্যার, (গাজী আশরাফ হোসেন) লিপু স্যার সবাইকেই ফোন দেওয়া হচ্ছে। কাউকে আমি ফোনে পাচ্ছি না এবং কেউ সাড়া দিচ্ছে না।'

'তারা কেন বাদ দিল এবং তাদের কাছে কী প্রমাণ আছে, সেই ব্যাপারে তো আমাকে জানতে হবে। এরপর আমি একটা মন্তব্য করতে পারব। তারা আমাকে কিছু জানায় নাই। কোনো প্রমাণ ছাড়া যদি তারা এরকম সিদ্ধান্ত নেয়... আমি অবশ্যই তাদের কাছে প্রমাণ চাইব। আর প্রমাণ না দেখাতে পারলে আমি আমার পর্যাপ্ত সম্মান ফেরত চাইব,' যোগ করেছেন তিনি।

Comments

The Daily Star  | English
Khaleda Zia political legacy in Bangladesh

The magic of Khaleda Zia

Her last speeches call for a politics of ‘no vengeance’.

22h ago