মেলবোর্নে নাটকীয় দিন: পড়ল ২০ উইকেট, এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

ছবি: এএফপি

সারাদিনে খেলা হলো মোট ৭৬.১ ওভার। মেলবোর্নের পেসবান্ধব পিচের পুরো ফায়দা নিলেন গতিময় বোলাররা। দুই দলই একবার করে অলআউট হওয়ায় পড়ল ২০ উইকেট। টস হেরে দিনের প্রথম ওভারে ব্যাটিংয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়াকে ফের ব্যাটিংয়ে নামতে হলো দিনের শেষ ওভারে। মাঝে এক সেশনে সবগুলো উইকেট হারাল ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনে দেখা মিলল চরম নাটকীয়তার!

ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ইতোমধ্যে পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। এবার ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার অভিযানে চতুর্থ টেস্টের শুরুটাও একেবারে মন্দ হয়নি তাদের। নিজেরা প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫২ রানে থামার পর সফরকারীদের প্রথম ইনিংস তারা গুটিয়ে দিয়েছে স্রেফ ১১০ রানেই। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করায় অজিদের লিড এখন ৪৬ রানের। হাতে রয়েছে সবকটি উইকেট।

টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াইয়ের ইতিহাসে প্রথম দিনে অন্তত ২০ উইকেট পড়ার ষষ্ঠ ঘটনা এটি। সর্বোচ্চ ২৫ উইকেটের পতন দেখা গিয়েছিল ১২৩ বছর আগে এই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই— ১৯০২ সালে।

পিচে ১০ মিলিমিটার (০.৩৯ ইঞ্চি) উচ্চতার ঘাসের উপস্থিতি রয়েছে, যা গত অ্যাশেজের বক্সিং ডে টেস্টের পিচের তুলনায় ৩ মিলিমিটার বেশি। আর ২০১৮ সালে এই মেলবোর্নের পিচ অতিরিক্ত ফ্ল্যাট বা ব্যাটিং সহায়ক হওয়ায় আইসিসি একে 'নিম্নমানের' রেটিং দিয়েছিল। তাই প্রশ্ন থাকছে, পিচ বোলারদের জন্য এত বেশি সহায়ক হওয়ার কারণে কি এটি আবারও আইসিসির তোপের মুখে পড়বে?

এটা সত্য যে, পেসাররা পিচ থেকে প্রচুর সাহায্য পেয়েছেন। কিছু ডেলিভারি খেলা ব্যাটারদের জন্য রীতিমতো অসম্ভবও ছিল। তবে তাদের শট নির্বাচন যেমন আরও ভালো হতে পারত, তেমনি মানসিকতায় দৃঢ়তার অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। চলমান অ্যাশেজ সিরিজে এখন পর্যন্ত খেলা সাত ইনিংসে ইংলিশদের দশম উইকেট জুটিগুলো মোট যত রান (১১৮) যোগ করেছে, তাদের ওপেনিং জুটিগুলোও সব মিলিয়ে (১০১) তা করতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৪৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন আটে নামা মাইকেল নেসের। দুই অঙ্কে তিনি ছাড়া আরও পাঁচজন গেলেও কেউই ত্রিশের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে এদিন সবচেয়ে সফল দীর্ঘদেহী পেসার জশ টাং। তিনি ৫ উইকেট নেন ৪৫ রান খরচায়। প্রতিপক্ষের ইনিংসের শুরুর দিকে আঘাত হানার পাশাপাশি শেষটাও মুড়িয়ে দেন তিনি।

ডানহাতি পেসার নেসের এরপর পালন করেন তার মূল দায়িত্ব। ৪ উইকেট শিকার করেন ৪৫ রানে। তার ও মিচেল স্টার্কের তোপে এক পর্যায়ে কেবল ১৬ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। এরপর স্কট বোল্যান্ডের কারণে হ্যারি ব্রুকের পাল্টা আক্রমণ লম্বা হয়নি। বোল্যান্ড ৩০ রানে ৩ ও স্টার্ক ২৩ রানে ২ উইকেট পান। ব্রুক খেলেন ৩৪ বলে ৪১ রানের টি-টোয়েন্টিসুলভ ইনিংস। দুই অঙ্কে যেতে পারেন আর বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন।

দিনের শেষ ওভারেও চমকের কমতি ছিল না। ট্রাভিস হেডকে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রেখে অজিদের দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন ডানহাতি পেসার বোল্যান্ড! পাঁচটি স্লিপের সঙ্গে একটি করে শর্ট লেগ ও লেগ গালি নিয়ে অ্যাটকিনসন বল করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। বরং দিনের শেষ বলে আউটসাইড এজ থেকে বাউন্ডারি পেয়ে যান বোল্যান্ড। উল্লাসে মেতে ওঠে গোটা গ্যালারি।

Comments

The Daily Star  | English

Hasina can’t evade responsibility for Khaleda Zia’s death: Nazrul

In 2018, Khaleda walked into jail, but came out seriously ill, he says

9h ago