দুই বছর পর ক্যাম্প ন্যুতে ফিরছে বার্সা
দুই বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য নির্মাণ-জটিলতা, আর ঘরছাড়া ম্যাচগুলোর ক্লান্তি। সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেদের ঘরে ফিরছে এফসি বার্সেলোনা। কাতালানদের হৃদস্পন্দন ক্যাম্প ন্যু আবার আলো ঝলমল করে উঠতে চলেছে, আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের দিনটি নির্ধারিত হয়েছে ২২ নভেম্বর।
ক্লাবটি সোমবার নিশ্চিত করেছে, আগামী শনিবার লা লিগায় অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বহু প্রতীক্ষিত পুনর্নির্মিত ক্যাম্প ন্যুতে ফিরবে বার্সেলোনা। প্রায় দুই বছরের নির্বাসনের পর সমর্থকদের সামনে এটি হবে এক ঐতিহাসিক পুনরাগমন।
২০২২–২৩ মৌসুমের শেষে ক্যাম্প ন্যু বন্ধ হওয়ার পর থেকে কাতালান জায়ান্টরা শহরের মন্টজুইকের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তাঁদের 'হোম ম্যাচ' খেলছিল। স্টেডিয়ামটির ১.৫ বিলিয়ন ইউরোর (১.৭৫ বিলিয়ন ডলার) পুনর্গঠন প্রকল্প নানা জটিলতা ও বিলম্বে জর্জরিত হওয়ায় ক্যাম্প ন্যু পুনরায় খুলতে এক বছর দেরি হয়ে গেছে।
শুরুতে নতুন ক্যাম্প ন্যুতে অস্থায়ীভাবে ৪৫,৪০১ জন দর্শক ধারণক্ষমতা থাকবে। তবে ওপরের তৃতীয় ধাপের কাজ শেষে এটি বেড়ে দাঁড়াবে ১,০৫,০০০ আসনে, যা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল অ্যারেনায় পরিণত করবে স্টেডিয়ামটিকে।
নভেম্বরের শুরুতে বার্সেলোনা স্টেডিয়ামটি পরীক্ষামূলকভাবে ২৩,০০০ দর্শকের জন্য একটি উন্মুক্ত প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজন করে, যা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।
ক্লাবটি পাশাপাশি আশা করছে, ৯ ডিসেম্বর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে আইনট্রাখট ফ্রাংকফুর্টের বিপক্ষে ম্যাচটিও যেন ক্যাম্প ন্যুতে আয়োজনের অনুমতি পায়। মৌসুমের প্রথমদিকে নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় বার্সাকে ৬,০০০-ধারণক্ষমতার জোহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ খেলতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আগের ক্যাম্প ন্যু তৈরি হয়েছিল ১৯৫৭ সালে, যার দর্শকধারণক্ষমতা ছিল ৯৯,০০০। নতুন প্রকল্প অনুযায়ী স্টেডিয়ামের ছাদ স্থাপনের কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে, যা মূল পরিকল্পনার চেয়ে এক বছর পিছিয়ে গেছে।


Comments