বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস ও গণতন্ত্রের অবনতি নিয়ে ইইউকে ৫ সংগঠনের চিঠি
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পালাবদলের পর মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নাগরিক সমাজের পাঁচটি সংগঠন। 'ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স'-এর নেতৃত্বে সংগঠনগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া ক্যালাসকে এই চিঠি দিয়েছে।
গত সোমবার পাঠানো এই চিঠিতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান, 'মব ভায়োলেন্স' বা সংঘবদ্ধ সহিংসতা এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের (এসএডিএফ) নির্বাহী পরিচালক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য পাওলো কাসাকা সংগঠনগুলোর পক্ষে চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, হিযবুত তাহরীর ও আনসার আল ইসলামের মতো গোষ্ঠীগুলো 'মব ভায়োলেন্স'-এর আড়ালে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনার কারণে আগের হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আরও উৎসাহ পেয়েছে।
চিঠিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, বিএনপিপন্থী ও জামায়াত-সংশ্লিষ্টদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করা হয়েছে।
চিঠিতে দ্য ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো প্রধান সংবাদপত্রগুলোর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, ভালুকায় এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যা এবং ভারতীয় হাই কমিশনের একাধিক কার্যালয়ে হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার এই পরিস্থিতিকে মৌলিক স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো হলো সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম (বেলজিয়াম), ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইইউ ও যুক্তরাজ্য), ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (জার্মানি), আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক (গ্লোবাল নেটওয়ার্ক) এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স (গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম)।


Comments