উত্তরে তাপমাত্রা গত বছরের চেয়ে কমেছে ৪ ডিগ্রি
হাড় কাঁপানো শীতে নাকাল উত্তরবঙ্গের শ্রমজীবী মানুষ। শীতে ফসলের মাঠেও বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। কর্মঘণ্টার সঙ্গে আয়ও কমে প্রায় অর্ধেক।
দেশের উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং ঠান্ডা বাতাস বইছে। গত বছরের এই দিনের তুলনায় আজ মঙ্গলবার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর রংপুর অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি সকাল ৬টায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ডিমলায় ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ বছর একই সময়ে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি থেকে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ সকাল ৬টায় রংপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কম। তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি কম।
এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে তাপমাত্রা কমেছে ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ডিমলায় ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি, দিনাজপুর ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ৪ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমেছে।
তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তীব্র শীতের মধ্যেও অনেকে বাধ্য হয়ে কাজ করছেন।
তেঁতুলিয়ার ভ্যানচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত বছর এই সময়ে এত শীত ছিল না। দিনে কখনো কখনো সূর্যের আলো দেখা গেছে। কিন্তু এবার সূর্যের আলোর কোনো দেখা নেই। শীতও বেশি।
তিনি আরও বলেন, শীতের কারণে বেশিক্ষণ ভ্যান চালাতে পারি না।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার নৌকার মাঝি আব্দুল মোত্তালিব বলেন, সকালে এত কুয়াশা থাকে, নিজের হাত দেখা যায় না। নদীতে নৌকা নিয়ে এসেও কোনো লাভ হয় না। শীতের কারণে সকালে যাত্রী পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, গরমের সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করে এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় হতো। এখন শীতের জন্য সকাল ১১টায় নদীতে আসি। বিকেল ৪টার পরে চলে যাই। এখন দিনে আয় হয় মাত্র চারশ থেকে আটশ টাকা।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আলু খেতে এখন চলছে মাটি ভরা দেওয়ার কাজ। সেখানেও সকালে শ্রমিকদের খুব একটা দেখা যায় না।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজস গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, সকালে শীতের চেয়ে ঠান্ডা বাতাসের কারণে মাঠে থাকা কঠিন হয়ে যায়। সূর্যের আলো না থাকায় বিকেল ৪টার আগেই সন্ধ্যা নেমে আসে। ফলে শ্রমিকরা নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই বাড়ি চলে যায়।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বাটির চর এলাকার মামুনুর রাশিদ বলেন, চরাঞ্চল বেশি ফাঁকা হওয়ার কারণে শীত বেশি অনুভূত হয়। শীতের কারণে চরাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ মাঠে কাজ করার চেয়ে বাড়িতে বেশি সময় কাটান।
এদিকে, তীব্র শীতের কারণে বড় ধানের ছাড়া হলুদ এবং সাদা হয়ে যাচ্ছে। নতুন বীজ বপনের পরে চারাও বের হচ্ছে না। অনেক বীজ নষ্ট হয়ে গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, একই অবস্থা উত্তরবঙ্গে আরও ৩ দিন অব্যাহত থাকবে। এরপর দিনের তাপমাত্রা আসতে আসতে বাড়বে ও রাতের তাপমাত্রা কমবে। তবে তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি হবে না।


Comments