‘খেলোয়াড়রা এখন জিম্মি’
সম্প্রতি হওয়া নির্বাচনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পেয়েছেন নতুন পরিচালনা পর্ষদ, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলে। তবে নতুন বোর্ড দায়িত্ব নিলেও দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবস্থা আরও ম্লান হয়ে পড়েছে।
অর্থ পরিশোধ নিয়ে বিরোধ, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, এবং নড়বড়ে অবকাঠামোর সমস্যার সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে নতুন এক ভয়—খেলোয়াড়দের মধ্যে সুযোগ হারানোর আশঙ্কা। প্রতিভার অভাবে নয়, বরং সুযোগের অভাবেই অনেকের ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত অক্টোবরের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের পর পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে চারটি বিভাগে থাকা ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৪৩টি আসন্ন ঘরোয়া মৌসুম থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যার মধ্যে আছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগের ক্লাবগুলো।
প্রথম বিভাগে ২০টি অংশগ্রহণকারী ক্লাবের মধ্যে আটটি ক্লাব বিসিবির সিইও-র কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। গতকাল বিসিবি সদর দপ্তরে খেলোয়াড় ড্রাফটের প্রথম দিনে এ আটটি ক্লাবের কেউই উপস্থিত ছিল না। নয়টি ক্লাব অংশ নেয়, আর বাকি তিনটি আজ শেষ দিনে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অবস্থাও ভালো নয়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার মাত্র পাঁচটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টটি।
ক্লাবগুলোর এই প্রত্যাহার বোর্ড ও আয়োজকদের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্ব এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে গভীর সঙ্কটের ইঙ্গিত দিলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেলোয়াড়রা—যারা বোর্ডের মূল স্টেকহোল্ডার। অনেকে স্থানীয় লিগ থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন, আর এখন তারা আশঙ্কায় আছেন দলে জায়গা না পাওয়ার।
একজন প্রথম বিভাগ ক্রিকেটার, যিনি এখনো কোনো দলে জায়গা পাননি, গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিস ক্রিকেট কমিটি (সিসিডিএম) থেকে একটি টোকেন নিয়েছেন সুযোগ পাওয়ার আশায়। তবে প্রতিযোগিতা ভয়ংকর, শতাধিক খেলোয়াড় একইভাবে অপেক্ষায়। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটার জুবায়ের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সত্যি বলতে, আমি টোকেন নিয়েছি, কিন্তু আমরা খেলোয়াড়রা এখন জিম্মি। এমন পরিস্থিতির জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। আমার মতো প্রায় ২০০ জন খেলোয়াড় টোকেন নিয়েছে—এই আশায় যে যদি কোনো সুযোগ আসে, তাহলে হয়তো কোনো দলে খেলার সুযোগ পাব।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা ঠিক জানিই না কোন কোন দল অংশ নিচ্ছে, কিন্তু দিনের শেষে ভোগান্তিটা আমাদেরই।'
বিসিবির এক সূত্র জানিয়েছে, যে আটটি ক্লাব খেলোয়াড় ট্রান্সফারে অংশ নেয়নি, তারা অন্তত ১৫০ জন প্রথম বিভাগ খেলোয়াড়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারত।
এবার বিপিএলে নানাবিধ কারণে মাত্র পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ঠিক করা হয়েছে। গত আসরের থেকে দুই দল কমে যাওয়ায় অনেক খেলোয়াড়ই দল পাবেন না। এই ব্যাপারে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফহিম বলেন, 'আমরা চেষ্টা করব বিপিএলের পাঁচ দলে স্থানীয় খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়াতে কিছু শর্ত যুক্ত করতে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সাত বা আট দলের বিপিএল হলে অনেক যোগ্য খেলোয়াড় আরও সুযোগ পেতেন।'
প্রিমিয়ার লিগের বেশ কয়েকটি দলও নতুন মৌসুমে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। বাস্তবতা হলো, শুধু 'কিছু ধারা যোগ করা' দিয়ে এই সঙ্কটের সমাধান সম্ভব নয়।


Comments