শামীমের বাদ পড়া নিয়ে নির্বাচকদের প্রতি লিটনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এমনিতে খুব বেশি উত্তাপের ছিলো না, বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজ হওয়াতেই যা একটু একটা বাড়তি নজর আছে। তবে সাদামাটা এই সিরিজে দল নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ ছড়ালেন লিটন দাস। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বিসিবি ও নির্বাচক কমিটি নিয়ে এমন কিছু কথা বললেন, যা একেবারেই ব্যতিক্রম। শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে বাদ দেওয়া নিয়ে স্পষ্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্বিমত জানিয়ে দিলেন তিনি।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটির জন্য যে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে জায়গা পাননি বাঁহাতি ব্যাটার শামীম হোসেন। তার বদলে নেওয়া হয়েছে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে।
শামীম কেন নেই, এই প্রসঙ্গ আসতেই নির্বাচকদের রীতিমতো এক হাত নিলেন লিটন, দিলেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, '(শামীম) থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। ইটস নট মাই কল, টোটালি সিলেক্টরস কল। আমি জানি না কেন… তবে নির্বাচকরা আমাকে কোন কিছু নোটিশ করা ছাড়াই শামীমকে বাদ দিয়ে দিয়েছে দল থেকে… উইদাউট এনি নোটিশ। আমি এতদিন জানতাম যে একটা দল যখন কেউ হ্যান্ডল করে, অন্তত অধিনায়ক জানে যে কোন ক্রিকেটার কখন দলে আসবে, কখন বাইরে যাবে।'
'আমি আশা করি, বাংলাদেশের প্রত্যেক ক্রিকেটারই সেরা ক্রিকেটার। এইজন্যই জাতীয় দলে আছে। যে ১৫ জনকেই নেওয়া হোক না কেন, তারাই ভালো করবে। তবে শামীমকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো কারণ আমি দেখি না। জানিও না, কেন বা পড়েছে সে।'
শামীমের বদলে দলে আসা অঙ্কন সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে বিশেষ কিছু করেননি। রাইজিং স্টার এশিয়া কাপ ও বিগত জাতীয় লিগের টি-টোয়েন্টিতেও তিনি রান পাননি। শামীম যেখানে লোয়ার অর্ডার ব্যাটার, অঙ্কনকে নেওয়া হয়েছে মিডল অর্ডার হিসেবে।
শামীম বাদ পড়ায় মিডল অর্ডারে কোন বাঁহাতি ব্যাটারও নেই বাংলাদেশের এতে প্রতিপক্ষ ম্যাচ-আপে সুবিধা পাবে কিনা জানতে চাওয়া হলে ক্রিকেট বোর্ডের দিকে ইঙ্গিত করে লিটন বলেন, 'গুড পয়েন্ট, আমার মনে হয় এটা আমাদের ভাবা উচিত। আপনার মাথায় এসেছে এই ব্যাপারটি… সিদ্ধান্তটা শেষ পর্যন্ত যদি আমাদের ওপরর থেকে আসতো, খুব ভালো হতো। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনাকে ডানহাতি-বাঁহাতি (সমন্বয়) করতে হবে।'
গোটা সংবাদ সম্মেলনে কূটনৈতিক চালের ধার ধারেননি লিটন। তবে বর্তমান স্কোয়াডের সদস্যদেরও ছোট করেননি তিনি, 'এখন যে ক্রিকেটারগুলো দলে আছে, তারাই এই মুহূর্তে সেরা এবং আমি বিশ্বাস করি, যে কেউ বাংলাদেশ দলে আসবে, তারা সেরা। সেরা হয়েই এখানে আসছে। তারা ডেলিভার করার চেষ্টা করবে।'
দল নির্বাচনে অধিনায়ক ও প্রধান কোচের সঙ্গে আলোচনা করা সাধারণ রীতি। কাউকে বাদ দিতে হলেও অধিনায়কের ভাবনা জানতে চাওয়া হয়। তবে লিটন জানালেন তার সঙ্গে কোন পরামর্শ করেন না নির্বাচকরা। বরং তাকে বলা হয়েছে যে দল দেওয়া হবে সেটা নিয়েই খেলতে হবে, 'আমাকে পুরোপুরি বলা হয়েছে, সিলেক্টর প্যানেল থেকে এবং বোর্ড থেকে যে আমাকে যে দলটা দেওয়া হবে, আমি সেই দলটা নিয়েই কাজ করতে হবে। এখানে আমার বলার কিছু থাকবে না যে, আমি কোন ক্রিকেটারকে চাই, কাকে চাই না। আমি এতদিন জানতাম, একটা মানুষ যখন অধিনায়ক, তার একটা দল গোছানোর একটা পরিকল্পনা থাকে। তবে সম্প্রতি কয়েকদিন থেকে জানতে পারলাম, যে দলটা আমাকে দেওয়া হবে, আমার কাজ হচ্ছে সেই দলটাকে নিয়েই মাঠে ভালো কিছু দেওয়া।'
এটা অধিনায়কের জন্য অপমানের না হলেও তা যে অনুচিত লিটন তা দৃঢ়ভাবে বলেছেন, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের দল নিয়েও কেমন একটা অসহায়ত্ব বেরিয়েছে তার কন্ঠে, 'ইনসালটিং…জায়গা বলব না। তবে আমার মনে হয়, কোচ এবং অধিনায়কের জানা উচিত (দল নিয়ে)। সেই জায়গা থেকে… আমরা কিছুই জানি না। যদি বিশ্বকাপেও একই জিনিস ঘটে, আমাকে যে দলটা দেওয়া হবে, আমি সেই দল থেকেই চেষ্টা করব একাদশ খেলানোর।'


Comments