জয়সওয়ালের ‘প্রথম’ সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে সিরিজ ভারতের
কুইন্টন ডি ককের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও প্রসিধ কৃষ্ণা ও কুলদীপ যাদব মিলে তিনশর বেশ নিচে আটকালেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। রান তাড়ায় বড় উদ্বোধনী জুটিতেই শক্ত ভিত পেয়ে গেল ভারত। রোহিত শর্মা সাজঘরে ফিরলেও যশস্বী জয়সওয়ালকে থামানো গেল না। বিরাট কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়ে গেলেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার। দাপুটে পারফরম্যান্সে অনায়াস জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা।
শনিবার বিশাখাপত্তনমে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাত্তাই পায়নি প্রোটিয়ারা। তাদেরকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে এই সংস্করণে টানা ২০ ম্যাচ পর অবশেষ টস জেতা ভারত। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৫ ওভারে ২৭০ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৬১ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে লোকেশ রাহুলের নেতৃত্বাধীন দল।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের আগের তিন ম্যাচে জয়ওয়ালের রান ছিল যথাক্রমে ২২, ১৮ ও ১৫। এবার ১১১ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করে তিনি অপরাজিত থাকেন ১১৬ রানে। ১২১ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন ১২ চার ও দুটি ছক্কা। ম্যাচসেরার পুরস্কার অনুমিতভাবেই উঠেছে তার হাতে। অভিজ্ঞ রোহিত সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় খেলেন ৭৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংস। ভীষণ ছন্দে থাকা আরেক অভিজ্ঞ তারকা কোহলি ঝড় তুলে করেন অপরাজিত ৬৫ রান। ৪৫ বলে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। তিনি হয়েছেন সিরিজসেরা।
জয়সওয়াল ও রোহিত যোগ করেন ১৫৫ বলে ঠিক ১৫৫ রান। কেশব মহারাজের বল স্লগ সুইপ করে ম্যাথু ব্রিটস্কির হাতে রোহিত ধরা পড়লে ভাঙে জুটি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ না দিয়ে জয়সওয়াল ও কোহলি মিলে শেষ করে দেন খেলা। তাদের অবিচ্ছিন্ন আগ্রাসী জুটিতে আসে ৮৪ বলে ১১৬ রান।
এর আগে প্রোটিয়াদের বড় পুঁজির আশা পূর্ণতা পায়নি কৃষ্ণা ও কুলদীপের কারণে। তাই বিফলে যায় ওপেনার ডি ককের আক্রমণাত্মক সেঞ্চুরি। তিনি ৮০ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আউট হন ১০৬ রানে। তার ৮৯ বলের ইনিংসে চার আটটি ও ছক্কা ছয়টি। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ৬৭ বলে ৪৮ রান করেন পাঁচটি চারের সাহায্যে। আর কেউ যেতে পারেননি ত্রিশের ঘরে।
মাঝের ওভারগুলোতে হানা দেওয়া পেসার কৃষ্ণা ৪ উইকেট নেন ৬৬ রানে। ডি কককে বিদায়ের আগে একই ওভারে চার বলের মধ্যে তিনি ছাঁটেন ব্রিটস্কি ও এইডেন মার্করামকে। শেষ ব্যাটার ওটনেইল বার্টম্যানকে বোল্ড করে প্রতিপক্ষের ইনিংসও মুড়িয়ে দেন তিনি। আঁটসাঁট থেকে ৪১ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন স্পিনার কুলদীপ। একে একে তিনি ফেরান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, মার্কো ইয়ানসেন, করবিন বশ ও লুঙ্গি এনগিডিকে। ফলে মাত্র ৩৬ রানে শেষ ৫ উইকেট তুলে নেয় ভারত।


Comments