নারী বিশ্বকাপ

ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা কে হবে নতুন চ্যাম্পিয়ন?

India vs South Africa
India vs South Africa

আজ নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। মাসব্যাপী জম্পেশ লড়াই শেষে দুই দলই চোখ রাখছে নিজেদের প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা জয়ের দিকে।

ভারত এর আগে দু'বার ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল—২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে তারা। ২০২০ সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয় ভারত। এবার ঘরের মাঠে প্রথম বৈশ্বিক শিরোপার স্বপ্নে বুঁদ হারমানপ্রীত কাউরের দল।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা টানা তৃতীয় বছরের মতো কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায়। তবে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে প্রোটিয়ারা।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত জানান ফাইনাল হারের যন্ত্রণার সঙ্গে পরিচিত তারা, এবার নিতে চান নতুন অভিজ্ঞতা,  'হারার অনুভূতি আমরা ভালোভাবেই জানি। কিন্তু জয়ের পর যে অনুভূতি আসে, সেটাই আমরা সত্যিকার অর্থে অপেক্ষা করছি।'

লিগ পর্বে চতুর্থ স্থানে থেকে সেমিফাইনালে ওঠা ভারত বৃহস্পতিবার ইতিহাস গড়ে ফাইনালে পৌঁছেছে। হারমানপ্রীত ও জেমিমা রদ্রিগেজের ব্যাটে নারীদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতে ভারত। সাতবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে তুমুল সাড়া ফেলেছে দলটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা লিগ পর্বে উত্তেজনাময় লড়াইয়ে ভারতকে হারিয়েছিল। এরপর বুধবারের সেমিফাইনালে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ১২৫ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। অধিনায়ক লরা উলভার্ট ১৪৩ বলে ১৬৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।

উলভার্ট মনে করেন স্বাগতিক হওয়ায় চাপটা ভারতের উপরই বেশি থাকবে,  'পুরো দর্শক ভারতের পক্ষে থাকবে, সম্ভবত গ্যালারি ঠাসা থাকবে। এতে তাদের উপরই চাপ বাড়বে, কারণ সবাই তাদের জয়ের আশা করছে। এটা আমাদের পক্ষে কিছুটা সুবিধা এনে দিতে পারে।'

লিগ পর্বের ম্যাচে ভারতকে হারালেও সেটা ফাইনালে কোন ভূমিকা রাখবে না বলে মনে করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক,  'প্রতিটি ম্যাচই শূন্য থেকে শুরু হয়। অতীতের কোনো ইতিহাস মাঠে কাজ দেয় না। নকআউট ক্রিকেট একদম আলাদা—এখানে কেউ কেউ অসাধারণ কিছু করে দেখায়, যেমনটা সেদিন জেমিমা করেছে।'

এদিকে ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার এই সুযোগের জন্য তারা গত দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, শেষবার আমরা যখন বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিলাম, দেশে নারীদের ক্রিকেটে অনেক পরিবর্তন এসেছিল। খেলার জনপ্রিয়তা বেড়েছিল, অনেক মেয়ে মাঠে আসতে শুরু করেছিল, আমি নিশ্চিত, এবার আমরা জিতলে আরও বড় পরিবর্তন আসবে। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, ঘরোয়া পর্যায়েও উন্নতি হবে।'

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও এটি এক ঐতিহাসিক সুযোগ, কারণ দেশটির নারী বা পুরুষ কোনো দলই এখনো কোনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, উলভার্ট চোখে উচ্ছ্বাসের ঝিলিক নিয়ে যোগ করেন, 'আমাদের দেশে সম্প্রতি ঘরোয়া চুক্তি চালু হয়েছে। তাই ভাবতে পারি, যদি আমরা বিশ্বকাপ জিতি—তা দেশে কী পরিবর্তন আনতে পারে। কত মেয়ে টিভিতে ম্যাচটা দেখবে, শুনবে যে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন এক বিশ্বকাপজয়ী দেশ।'

Comments

The Daily Star  | English

Millions mourn

The entire city stood in solemn tribute to Bangladesh’s first female prime minister yesterday.

5h ago