বিব্রতকর ব্যাটিং প্রদর্শনীতে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারল বাংলাদেশ
যে উইকেটে চার-ছক্কার ঝড় তুললেন দুই ভাই হ্যারি ও টিম টেক্টর। সেই উইকেটে মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশের ব্যটিং। আরও একবার দেড়শোর বেশি রান তাড়া কীভাবে করতে হয় দেখাতে পারল না লিটন দাসের দল। বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হ্যামফ্রিস, দুই পেসার মার্ক অ্যাডাইয়ার ও ব্যারি ম্যাকার্থির বল যেন হয়ে উঠল দুর্বোধ্য। চূড়ান্ত বিব্রতকর ব্যাটিং প্রদর্শনীতে স্বাগতিকরা কোন লড়াই জমাতে পারেনি। তাওহিদ হৃদয়ের একার চেষ্টা কেবল কমিয়েছে হারের ব্যবধান।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবসে বেশিরভাগ আসন ছিলো ফাঁকা। যে কয়েক হাজার দর্শক এসেছেন তাদের ফিরতে হয়েছে হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হারল ৩৯ রানের ব্যবধানে।
পাওয়ার প্লের মধ্যে ২০ রানে ৪ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা এই রান পেয়েছে মূলত তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে। ছন্দহীন ব্যাটার বাকিদের ব্যর্থতার দিনে খেলেছেন ৫০ বলে ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের সফল বোলার হ্যামফ্রিস। ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
যে উইকেটে আইরিশরা ঝড় তুলল সেই উইকেটে রান তাড়ায় নেমেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হ্যামফ্রিসের প্রথম ওভারে ক্যাচ তুলে তুলেন তানজিদ হাসান তামিম। ৫ বলে স্রেফ ২ রান করেন তিনি। মার্ক অ্যাডাইয়ার দ্বিতীয় ওভারে এসে হানেন আরও বড় আঘাত। তার বলে আলতো শটে ক্যাচ তুলে হাঁটা ধরেন অধিনায়ক লিটন দাস। ওই ওভার উইকেট মেডেন নেন অ্যাডাইয়ার।
ডানহাতি এই পেসার নিজের দ্বিতীয় ওভারেও পান উইকেট। শর্ট বল করে ডিপে ফিল্ডার রেখে পারভেজ হোসেন ইমনের জন্য ফাঁদ তৈরি করেন তিনি। সেই ফাঁদেই কাটা পড়েন পারভেজ (৬ বলে ১)। অ্যাডাইয়ার তার প্রথম ৯ বলে কোন রান না দিয়ে নেন ২ উইকেট।
সহ-অধিনায়কত্ব পাওয়া সাইফ হাসান ক্রিজে নেমে ছিলেন খোলসবন্দি। একের পর এক ডট বলে বাড়াচ্ছিলেন চাপ। ব্যারি ম্যাকার্থির ভেতরে ঢোকা বল ফ্লিক করতে গিয়ে স্টাম্প উড়ে যায় তার। ১৩ বলে মাত্র ৬ রান করে বিদায় নেন সাইফ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পারে মাত্র ২০ রান, হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট।
ম্যাচ তখন পুরোপুরি আয়ারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। চরম নাজুক অবস্থায় জুটি বাঁধেন হৃদয়-জাকের।
জুটিতে অগ্রনী ছিলেন হৃদয়, রান বাড়াচ্ছিলেন তিনিই। আরেক পাশে ফর্ম ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা জাকের ফের করেন হতাশ। ম্যাকার্থির শর্ট বলে ক্রস খেলতে গিয়ে ডিপ থার্ডে উঠে তার ক্যাচ, সহজেই তা লুফেছেন জশ লিটল। ৩৪ বলে ৪৮ রানের জুটি ভাঙার পর আশা দেখা ছিলো কঠিন। সাতে নামা তানজিম হাসান সাকিবও ক্যাচ উঠিয়ে থামলে বাংলাদেশ হার যেন তখন একদম স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো। যদিও হৃদয় তখনো ক্রিজে। আরেক পাশে আসা-যাওয়ার মিছলে স্রেফ ৩ বল খেলে হ্যামফ্রিসের শিকার হয়ে বিদায় নেন রিশাদ হোসেনও।
ম্যাচের সমীকরণ নাগালের বাইরে যাওয়ার পর শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ৩১ বলে ৪৮ যোগ করেন হৃদয়, ৩৪ বলে ফিফটি করে ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে তার ইনিংসের কোন পর্যায়ের জেতার আশা দেখা দেয়নি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই টেক্টর ভাই হ্যারি ও টিম মিলে আয়ারল্যান্ডকে পাইয়ে দেন শক্ত পুঁজ। পাওয়ার প্লেতে পল স্টার্লিংকে নিয়ে উড়ন্ত শুরুর পর দুই ভাই পান গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ১৯ বলে ৩২ করে টিম থামলেও হ্যারিকে আউট করা যায়নি। ৪৫ বলে ১ চার, ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তবে উইকেট বেশ ভালো হওয়ায় এই রান টপকে যাওয়া তেমন বড় কোন চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছিলো না।
বাঁহাতি স্পিনার হ্যামফ্রিসের জবাব দিতে পারেনি বাংলাদেশ। বাঁহাতি এই স্পিনারের কোন জবাবই দিতে পারেনি বাংলাদেশ।


Comments